ভোরের পত্র

রংপুরের বৃদ্ধাশ্রমে মারা যাওয়া প্রকৌশলীর দাফনে পরিবারের কোনো সদস্য উপস্থিত ছিল না।

  • ৩ নভেম্বর ২০২২, ১১:৫০ পূর্বাহ্ণ
  • ১৯ বার দেখা হয়েছে
রংপুরের বৃদ্ধাশ্রমে মারা যাওয়া প্রকৌশলী এস এম মনছুর আলীকে (৭৫) পৈতৃক বাড়ি বরিশালের গৌরনদী উপজেলার দক্ষিণ চাঁদশী গ্রামে দাফন করা হয়েছে। তবে এসময় তার পরিবারের কোনো সদস্য উপস্থিত ছিল না। দুঃসম্পর্কের কয়েকজন স্বজন ও গ্রামবাসী মিলে তাকে দাফন করেন।
জানা গেছে, কয়েক মাস আগে অসুস্থ অবস্থায় রংপুর নগরীর ৭ নম্বর ওয়ার্ডের হারাগাছ থানার বকসা বৃদ্ধাশ্রমে আশ্রয় নিয়েছিলেন এস এম মনছুর। এরপর থেকে তিনি সেখানেই ছিলেন। তবে নিজের সম্পর্কে তেমন কোনো কথা বলতেন না তিনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বকসা বৃদ্ধাশ্রমের সদস্য সচিব নাহিদ নুসরাত বলেন, কারও কাছে হয়তো খবর পেয়ে চলতি বছরের ২১ জুন রাত সাড়ে ১১টার দিকে অসুস্থ অবস্থায় একটি অ্যাম্বুলেন্সে বৃদ্ধ মনছুর আলী আমাদের এখানে আসেন। তিনি একা এসেছিলেন। এরপর থেকে তিনি আমাদের বৃদ্ধাশ্রমেই ছিলেন।
তিনি বলেন, এতদিন এখানে থাকলেও মনছুর আলী তার নিজের সম্পর্কে তেমন একটা কথা বলেননি। মারা যাওয়ার আগের দিন গল্পের ছলে তিনি তার জীবনের অনেক কথাই বলেছিলেন। তিনি কোথায় চাকরি করেছেন, কোথায় বাসা, ছেলেমেয়ে কতজন এসব অনেক কিছুই বলেছেন।
নাহিদ নুসরাত আরও বলেন, রোববার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে অসুস্থ হয়ে পড়েন মনছুর আলী। রাতে বৃদ্ধাশ্রমে তার মৃত্যু হয়। এরপর মরদেহ তার খালাতো ভাই বাবুল গাজীর ঠিকানায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
দক্ষিণ চাঁদশী গ্রামের বাসিন্দা ও এস এম মনছুরের দুঃসম্পর্কের এক স্বজন বলেন, মনছুর টিঅ্যান্ডটি বোর্ডের সাবেক সিনিয়র অ্যাসিন্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন। তিনি রংপুর ও ঢাকায় কর্মরত ছিলেন। তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। এর মধ্যে বড় ছেলে মহিন সরদার ঢাকায় একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন ও ছোট ছেলে রাজু সরদার কাতার প্রবাসী। মনছুরের পৈতৃক বাড়ি দক্ষিণ চাঁদশী গ্রামে। তবে এখানে তার যাওয়া-আসা ছিল না। এখানে থাকা দুঃসম্পর্কের স্বজনদের সঙ্গেও তার যোগাযোগ ছিল না।
তিনি আরও বলেন, এস এম মনছুরের ঢাকায় প্রায় কোটি টাকার সম্পত্তি রয়েছে। ওই সম্পত্তি আত্মসাতের জন্য তার ছেলে ও বোন ১০ বছর আগে তাকে ঢাকার বাসা থেকে বের করে দেন। এরপর তারা মনছুর মারা গেছেন বলে আত্মীয়-স্বজনদের কাছে প্রচার করেন। পরে আর ওই বাসায় আশ্রয় না পেয়ে বিভিন্ন জায়গায় থেকেছেন তিনি।
দক্ষিণ চাঁদশী গ্রামের বাসিন্দা কাজী আশিকুর রহমান রতন বলেন, এস এম মনছুরের মরদেহ বৃদ্ধাশ্রম থেকে দক্ষিণ চাঁদশী গ্রামে নিয়ে এলে দুঃসম্পর্কের কয়েকজন স্বজন ও গ্রামবাসী মরদেহ গ্রহণ করেন। সোমবার দুপুরে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার মরদেহ দাফন করা হয়।
তিনি আরও বলেন, তবে জানাজা ও দাফনে তার পরিবারের কোনো সদস্য উপস্থিত ছিল না। এটা সত্যিই দুঃখজনক। অন্তত এস এম মনছুরের বিদায়বেলায় তার পরিবারের সদস্যদের উপস্থিত থাকা প্রয়োজন ছিল
ভোরের পত্র

এ জাতীয় আরো পড়ুন :

বাঞ্ছারামপুরে এক নার্স কে কুড়াল দিয়ে কুপিয়েছে এক যুবক।
বাঞ্ছারামপুরে এক নার্স কে কুড়াল দিয়ে কুপিয়েছে এক…
ব্রাক্ষণবাড়িয়ায় এক শিশুর গলা কাটা লাশ উদ্ধার।
ব্রাক্ষণবাড়িয়ায় এক শিশুর গলা কাটা লাশ উদ্ধার।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রেনে কাটা পড়ে নারীসহ দুইজনের মৃত্যু।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রেনে কাটা পড়ে নারীসহ দুইজনের মৃত্যু।
ব্রাক্ষণবাড়িয়ায় পুলিশের গুলিতে ছাত্রদল নেতা নিহত।
ব্রাক্ষণবাড়িয়ায় পুলিশের গুলিতে ছাত্রদল নেতা নিহত।
হবিগঞ্জের লাখাইয়ে পুলিশ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ।
হবিগঞ্জের লাখাইয়ে পুলিশ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ।
ঝালকাটিতে বড় ভাইয়ের হাতে ছোট্ট ভাই খুন।
ঝালকাটিতে বড় ভাইয়ের হাতে ছোট্ট ভাই খুন।
কণ্ঠশিল্পী আকবর মারা গেছেন।
কণ্ঠশিল্পী আকবর মারা গেছেন।
আশুলিয়ায় মোবাইলে বিচারপতি সেজে প্রতারণার অভিযোগে প্রতারক আটক।
আশুলিয়ায় মোবাইলে বিচারপতি সেজে প্রতারণার অভিযোগে প্রতারক আটক।