বিজয়নগর প্রতিনিধি ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিজয়নগর উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়নের মৃত আব্দুল জাহের এর ছেলে লিটন মিয়া (৪০) এর ফাঁদে পড়ে সর্বস্ব হারালেন একই উপজেলার চান্দুরা ইউনিয়নের ২২ বছর বয়সী এক প্রবাসীর বধু।
ঘটনা সূত্রে জানা যায়, গত ২০২৩ ইং সালের মাঝামাঝিতে উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়নের নয়নপুর গ্রামের প্রবাসী ফজলুর রহমানের সাথে পারিবারিকভাবে টেলিফোনে যুবতীর বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। প্রবাসে থাকাকালে ফজলুর রহমান তার স্ত্রীকে ঘরে উঠান এবং বাড়ির দায়-দায়িত্বে একটা পাকা ঘর উঠানোর জন্য রাজমিস্ত্রি লিটন মিয়াকে দায়িত্ব দেন। লিটন মিয়া পাহাড়পুর ইউনিয়নের গিলামুরা গ্রামের মৃত আব্দুল জাহেরের ছেলে।
লিটন দায়িত্ব পেয়ে নববধূর সাথে প্রতিদিন কাজের কথাবার্তা বলার সুযোগে প্রবাসী স্বামীর দোষারোপ বিভিন্ন লোভ লালসা দেখিয়ে কোন এক সময় পুষলিয়ে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে। কিছুদিন যেতে না যেতেই লিটন বিবাহিত জানতে পেরে গৃহবধূ ভুল বুঝতে পেরে তার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। লিটন তখনই শুরু করে শত্রুতার আচরণ। প্রবাসী স্বামী দেশে আসার দশ দিন আগে স্ত্রীকে তার বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেন আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে স্ত্রীকে ঘরে উঠাবে। এদিকে প্রতারক লিটন গৃহবধূর প্রবাসী স্বামীকে ফোনে জানান তুমি কার স্ত্রীকে ঘরে উঠাবে, সে তো আমার বিবাহিত স্ত্রী। এরকম কিছু মিথ্যা অপবাদ দিয়ে প্রবাসী স্বামীর সংসার থেকে অসহায় গৃহবধূকে স্বামীর সংসার থেকে বিচ্ছেদ ঘটান। গৃহবধূ উপায়ান্তু না দেখে গত ৩ই জুলাই ২০২৪ ইং তারিখে লিটনের সাথে আদালতে ৫ লক্ষ টাকা কাবিনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালতে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে লিটন নিজ স্ত্রীকে শ্বশুরালয়ে রাখার সিদ্ধান্ত নেয়, প্রতিশ্রুতি ছিল পরিস্থিতি শান্ত হলে তার ঘরে উঠাবে। এদিকে মিষ্টি ভাসি প্রতারক শশুরালয় জামাই আদরে নির্দ্বিদায় আসা-যাওয়া করেন। মাসেক পর আবারো নতুন কাহিনী, প্রতারণায় শিকার নারী জানতে পারে প্রতারকের তিনটি সন্তান রয়েছে। এখন গৃহবধূর জীবন নিয়ে বাছাটাই যেন চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়েছে। উপায়ান্ত না দেখে সিদ্ধান্ত নেয় প্রতারকের সংসার নিয়েই কষ্ট করে বাঁচতে। এদিকে প্রতারক মধুভাষী স্ত্রী তিন মাসের অন্তঃসত্তার কথা শুনে, আজ পাঁচ মাস যাবত স্ত্রীর সাথে সম্পূর্ণভাবে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। উল্টো ৩ লক্ষ টাকার দাবি জানান তার ব্যক্তিগত ঋণ পরিশোধ করার জন্য। অসহায় নারীর বাবা ও উপযুক্ত অভিভাবক নেই। দুটি ভাই থাকলেও অটোরিক্সা চালিয়ে কোনরকম দিন যাপন করে। ভুক্তভোগী গৃহবধূ এখন ৮ মাস অন্তঃসত্ত্বা। পাচ্ছে না নিয়মিত ঔষধ ও খাবার, না পাচ্ছে সময়োপযোগী সেবা। ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ এখন দরজায় দরজায় ঘুরছে প্রতারণার বিচার পাওয়ার জন্য।
থানায় অভিযোগ করেও প্রতিকার না পেয়ে বর্তমানে আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতনে আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি বর্তমানে সমবায় কর্মকর্তা বিজয়নগর এর কাছে তদন্তাধীন অবস্থায় উভয় পক্ষের সম্মতিতে শালিসের মাধ্যমে ভরণপোষণ ও অসমাপ্ত কাবিননামায় স্বাক্ষর করতে স্বীকারোক্তি দিয়ে দুই মাস বিবাহিত হলেও প্রতারক লিটনকে পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগী নারীর আবেদন, আমার জীবন নষ্ট করেছে, আমি এখন কোন জায়গায় স্থান পাইতেছি না। প্রতারক লিটন এর সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি। যাতে করে তার এই দৃষ্টান্তে অন্য কোন প্রতারক এভাবে কোন মেয়ের জীবন নষ্ট না করতে পারে।
অভিযুক্ত লিটন মিয়া বলেন, শালিশের পর প্রথম মাসে ১৫০০ ও দ্বিতীয় মাসে ৫০০ টাকা দিয়েছি। স্বীকারোক্তিতে বলেন কাবিননামায় স্বাক্ষর করেনি। এবং সাংবাদিককে উল্টা হুমকি দিয়ে আসছে।
এ বিষয়ে উপজেলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সত্য উন্মোচনে গোপনীয়তা রক্ষায় মামলার সুষ্ঠ তদন্ত কাজ চলমান আছে এবং ভুক্তভোগী ন্যায়বিচার পাবে বলে জানান।
সম্পাদক ও প্রকাশক : এইচ.এম. জহিরুল ইসলাম। বার্তা সম্পাদক : আব্দুল্লাহ আল হৃদয় ঠিকানা : বাসা নং ৭৯, ব্লক এইচ, ৭ম তলা, বনানী, ঢাকা ১২১৩ মোবাইল : 01720-653367 ইমেইল : bhorerpotro@gmail.com
Copyright © 2026 ভোরের পত্র. All rights reserved.