
স্টাফ রিপোর্ট:–ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাহিদ ফাতেমার বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও সেবাগ্রহীতাদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। নামজারি ও মিস কেস নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে সরকারি বিধিবিধান তোয়াক্কা না করে নিজের ইচ্ছেমতো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া এবং সাধারণ মানুষের সাথে দুর্ব্যবহারের ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিজয়নগর উপজেলা ভূমি অফিসে বর্তমানে ভূমি আইন বা সরকারি কোনো নীতিমালার বালাই নেই। এসিল্যান্ড নাহিদ ফাতেমা নিজের খেয়ালখুশিমতো নামজারি অনুমোদন ও বাতিল করছেন। সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ তার দপ্তরে গিয়ে প্রায়ই হুমকি-ধমকি ও দুর্ব্যবহারের শিকার হচ্ছেন বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী আনন্দগাঁও গ্রামের সোহেল জানান, ২০১৫ সালে তিনি জনৈক মো. রফিকুল ইসলামের কাছ থেকে ১১.৫০ শতক নাল জমি ক্রয় করেন (দলিল নং- ৬৫৮৫)। জমিটি নিচু থাকায় মাটি ভরাট করে তিনি সেখানে বাড়ি নির্মাণ করে সপরিবারে বসবাস করছেন। ২০২০ সালে ওই জমির নামজারি সম্পন্ন করে নিয়মিত ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) পরিশোধ করে আসছেন। কিন্তু সম্প্রতি একটি চক্র ওই নামজারি বাতিলের আবেদন করলে, এসিল্যান্ড তাকে তলব করেন।
সোহেল অভিযোগ করে বলেন, “গত ৪ অক্টোবর ২০২৫ ইং তারিখে আমি অফিসে গিয়ে এসিল্যান্ড নাহিদ ফাতেমার কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপস্থাপনের জন্য সময় প্রার্থনা করি। কিন্তু তিনি আমার কোনো কথা না শুনে অত্যন্ত দুর্ব্যবহার করেন এবং আমাকে অফিস থেকে বের করে দেন। কোনো প্রকার তদন্ত বা আইনি শুনানি ছাড়াই তিনি আমার দীর্ঘদিনের বৈধ খারিজ বাতিল করে আয়েশা খাতুন নামে এক নারীর নামে নতুন খারিজ করে দেন।”
সোহেল আরও বলেন, রফিকুল ইসলাম ১৯৯৯ সালে তার স্ত্রী আয়েশা খাতুনকে ৩১ শতক জমি রেজিস্ট্রি করে দেন। সেখানে ভুলবশত একটি দাগ নম্বর (৩৫৪) অন্তর্ভুক্ত হয়। পরবর্তীতে ২০০৩ সালে আয়েশা খাতুন সেই জমি আবু মিয়া নামে একজনের কাছে বিক্রি করে দেন এবং বর্তমানে আবু মিয়া সেই জমির দখলে আছেন। ২০০৩ সালে জমি বিক্রি করে দেওয়ার দীর্ঘ ২৩ বছর পর কীভাবে আয়েশা খাতুন পুনরায় ওই জমির নামজারি পেলেন, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে বুধন্তী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহশিলদার ওবায়দুল কবির জানান, “আয়েশা খাতুন ২০০৩ সালে আবু মিয়ার কাছে জমি বিক্রি করে দখল বুঝিয়ে দিয়েছেন। এখন আবার নতুন করে তিনি কীভাবে খারিজ পেলেন, সেটা আমার বোধগম্য নয়।”
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিজয়নগর সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাহিদ ফাতেমা দাম্ভিকতার সহিত বলেন, “একদিনে নামজারি করা যাবে না—এমন কথা আইনের কোথায় আছে? আবার কেউ আবেদন করলে আমি খারিজ বাতিল করে দেবো।” আইনের যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে এমন মন্তব্য এবং কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ স্থানীয় সচেতন মহল।
ভুক্তভোগী পরিবারটি এই অন্যায়ের প্রতিকার চেয়ে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা মনে করেন, একজন সরকারি কর্মকর্তার এমন স্বেচ্ছাচারী আচরণ সরকারের ভূমি সেবা সহজীকরণের লক্ষ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।