স্টাফ রিপোর্ট:-রাজনীতি মানেই কি শুধু ক্ষমতা? নাকি এর পেছনে লুকিয়ে থাকে বছরের পর বছর ত্যাগ, জেল-জুলুম আর অদম্য আদর্শের গল্প? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার চান্দুরা ইউনিয়নে যার নামটি বারবার উচ্চারিত হয়, তিনি হলেন আলহাজ্ব আবদুল হক। কোনো বিশেষ পদবি নয়, তার নামটাই এখন স্থানীয় রাজনীতিতে একটি ‘প্রতিভা’ ও ‘আস্থার’ প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আলহাজ্ব আবদুল হক চান্দুরা ইউনিয়নের জালালপুর গ্রামের ঐতিহ্যবাহী মুন্সি বাড়ির সন্তান। তার বাবা মরহুম ইউসুফ আলী ছিলেন এলাকার একজন সজ্জন ব্যক্তি। পারিবারিক সেই সততা আর আদর্শের দীক্ষা নিয়েই বড় হয়েছেন আবদুল হক। ছাত্রজীবনেই যখন অধিকাংশ তরুণ নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ব্যস্ত থাকেন, তখন তিনি বেছে নিয়েছিলেন রাজপথের সংগ্রামকে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ছাত্রদল থেকেই তার রাজনৈতিক হাতেখড়ি।
একজন রাজনীতিবিদের আসল পরীক্ষা হয় কঠিন সময়ে। আবদুল হক সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন বারবার। বিগত দিনগুলোতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন আর প্রতিকূল পরিবেশে তাকে অসংখ্য মামলার আসামি হতে হয়েছে। নিজ আদর্শ থেকে বিচ্যুত করতে তার ওপর নেমে এসেছিল দমন-পীড়নের খড়্গ। এমনকি তাকে কারাবরণও করতে হয়েছে। কিন্তু কারাগারের চার দেয়াল কিংবা মামলার পাহাড়—কোনো কিছুই তাকে বিএনপির রাজনীতি থেকে এক চুলও সরাতে পারেনি। নেতাকর্মীদের কাছে তিনি সেই নেতা, যিনি ঝড়েও আপস করেননি।
দীর্ঘদিনের রাজপথের ত্যাগ আর বিশ্বস্ততার পুরস্কার হিসেবে বর্তমানে তিনি চান্দুরা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। তার নেতৃত্বে ইউনিয়ন বিএনপি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সুসংগঠিত। তৃণমূলের সাধারণ কর্মীদের সাথে তার আত্মিক সম্পর্ক তাকে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকা এবং দলের যেকোনো কর্মসূচিতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়াই তার প্রধান বৈশিষ্ট্য।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতে, আলহাজ্ব আবদুল হক কেবল একজন নেতা নন, তিনি দলের দুঃসময়ের কাণ্ডারি। জালালপুর গ্রাম ছাড়িয়ে পুরো ইউনিয়নে তার গ্রহণযোগ্যতা আজ প্রশ্নাতীত। ব্যক্তিগত জীবনে অত্যন্ত বিনয়ী ও ধর্মপ্রাণ এই মানুষটি রাজনীতির ময়দানে ততটাই কঠোর যখন প্রশ্ন আসে দলের আদর্শের।
রাজনীতিতে জোয়ার-ভাটা থাকে, কিন্তু আদর্শবান নেতার কোনো পরিবর্তন হয় না। আলহাজ্ব আবদুল হক প্রমাণ করেছেন, যদি লক্ষ্য অবিচল থাকে এবং দলের প্রতি ভালোবাসা থাকে অকৃত্রিম, তবে জেল-জুলুম সহ্য করেও মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া সম্ভব। চান্দুরা ইউনিয়ন বিএনপির এই কাণ্ডারি আগামী দিনেও তার মেধা ও শ্রম দিয়ে দলকে আরও শক্তিশালী করবেন—এমনটাই প্রত্যাশা দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণের।
সম্পাদক ও প্রকাশক : এইচ.এম. জহিরুল ইসলাম। বার্তা সম্পাদক : আব্দুল্লাহ আল হৃদয় ঠিকানা : বাসা নং ৭৯, ব্লক এইচ, ৭ম তলা, বনানী, ঢাকা ১২১৩ মোবাইল : 01720-653367 ইমেইল : bhorerpotro@gmail.com
Copyright © 2026 ভোরের পত্র. All rights reserved.