
স্টাফ রিপোর্ট:-ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় মেঘনা নদীর তীরে অবৈধভাবে বালু ও মাটি উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। বুধবার (১৫ এপ্রিল ২০২৬) দুপুর ২টায় উপজেলার ডুবাজেল এলাকায় এক ঝটিকা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হোসেন আলী। অভিযানে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় ৮ ব্যক্তিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। সূত্রে জানা যায়,’বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০’-এর ৪ নং ধারা লঙ্ঘন করে মেঘনা নদীর তীর থেকে অবৈধভাবে বালু ও মাটি উত্তোলন করছিল একটি চক্র। অভিযান চলাকালে হাতেনাতে অপরাধীদের আটক করা হয় এবং এ আইনের ১৫ নং ধারা অনুযায়ী সাজা প্রদান করা হয়। সাজার বিবরণে জানা যায়, আটককৃত ৫ জনকে ৫ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড, ১ জনকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড এবং অন্য জনকে ১৫ দিনের কারাদণ্ডের পাশাপাশি ২ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড এবং অপর ১ জনকে সর্বোচ্চ ৬০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। অভিযানকালে ঘটনাস্থল থেকে আনুমানিক ৪৫০ লিটার ডিজেল, ৬টি এলপিজি (LPG) সিলিন্ডার এবং ৭টি ব্যাটারি জব্দ করা হয়। জব্দকৃত এসব মালামাল তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে ৮৯,২০০ (ঊননব্বই হাজার দুইশত) টাকায় বিক্রয় করা হয়। নিলামকৃত ডিজেল যেন স্থানীয় কৃষকরা তাদের কৃষি কাজে ব্যবহার করতে পারেন, প্রশাসন থেকে তা নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া অবৈধ কাজে ব্যবহৃত ২টি মাটি কাটার যন্ত্র (স্কেবেটর), ৫টি মাটি পরিবহনের ট্রাক্টর এবং ২টি বাল্কহেড জনসম্মুখেই বিনষ্ট করা হয়। অভিযান শেষে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হোসেন আলী বলেন, “অবৈধ বালু ও মাটি উত্তোলনের ফলে নদীর পাড় ও পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে। জনস্বার্থে এবং নদী রক্ষায় প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে। কোনোভাবেই অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের ছাড় দেওয়া হবে না।” উপজেলা প্রশাসনের এমন সাহসী ও কার্যকর পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো।