
স্টাফ রিপোর্ট :- বিজয়নগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) | ২২ এপ্রিল, ২০২৬
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়নের পাহাড়পুর কৃষি ব্লকে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ‘সীড ভিলেজ’ বা বীজ গ্রাম প্রদর্শনীর মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২২ এপ্রিল) বাংলাদেশ সাসটেইনেবল রিকভারি, ইমার্জেন্সি প্রিপেয়ার্ডনেস অ্যান্ড রেসপন্স প্রজেক্ট (বি-স্ট্রং)-এর এগ্রিকালচারাল সিস্টেম রেস্টোরেশন কম্পোনেন্ট প্রকল্পের আওতায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের রবি মৌসুমে এই পাহাড়পুর কৃষি ব্লকে স্থাপিত এই প্রদর্শনীর তিনটি প্রধান ফসলের উন্নত জাত প্রদর্শিত হয়। এর মধ্যে রয়েছে উচ্চ ফলনশীল ব্রি ধান-১০৮, ব্লাস্ট প্রতিরোধী বারি গম-৩৩ এবং অধিক তেলসমৃদ্ধ বারি সরিষা-২০। প্রযুক্তিনির্ভর এই বীজ গ্রাম প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের মানসম্মত বীজ উৎপাদনে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) ক্রপস উইংয়ের পরিচালক ড. সালমা লাইজু। তিনি বলেন, “খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মানসম্মত বীজের বিকল্প নেই। বি-স্ট্রং প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা কৃষকদের হাতে কলমে আধুনিক প্রযুক্তি পৌঁছে দিচ্ছি যাতে তারা নিজেরাই উন্নত বীজ উৎপাদন ও সংরক্ষণ করতে পারেন।”
মাঠ দিবসে কৃষকদের পক্ষ থেকে মতামত প্রদান করেন ধান চাষি আব্দুর রহমান ও গম চাষি ইসহাক মিয়া। আব্দুর রহমান জানান, মাঠে থাকা ব্রি ধান-১০৮ এর অবস্থা অত্যন্ত চমৎকার এবং বাম্পার ফলনের আশা করছেন তিনি। অন্যদিকে, ইসহাক মিয়া বলেন, “বারি গম-৩৩ চাষ করে প্রতি বিঘায় প্রায় ১১ মণ ফলন হয়েছে। এটি অত্যন্ত লাভজনক একটি ফসল।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ডিএই-এর উপপরিচালক ড. মোস্তফা এমরান হোসেন টেকসই কৃষি নিশ্চিত করতে এ ধরণের প্রকল্পের গুরুত্ব তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানের সভাপতি ও বিজয়নগর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ জিয়াউল ইসলাম বলেন, উপজেলা কৃষি অফিস সর্বদা কৃষকদের পাশে থেকে আধুনিক প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করে আসছে।
মাঠ দিবস আয়োজনে সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আশরাফুল আলম।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ জহিরুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং প্রায় ৫০ জন উৎসাহী কৃষক-কৃষাণী।