
বিজয়নগর প্রতিনিধি:-ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে পুকুরের জায়গা বায়না সূত্রে বিক্রি নিয়ে দাতা ও গ্রহিতাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে। উপজেলার বুধন্তী ইউনিয়নের সাতবর্গ এলাকার সাতবর্গ মৌজার বিএস দাগ নং-৪০৬ এর ৪৫ শতাংশ পুকুরের জায়গা নিয়ে এ বিরোধের সৃষ্টি হয়।
জানা গেছে, উক্ত জায়গার দাতারা হলেন অমিত রায়, দিলীপ রায়, প্রশান্ত রায়, সঞ্জয় কুমার রায়, সুজয় রায় ও মীনা রায়। দাতাদের অভিযোগ, তারা পুকুরের জায়গা বিক্রয়ের জন্য গ্রহিতাদের কাছ থেকে বায়না নিলেও দীর্ঘদিন ধরে বাকি টাকা পরিশোধ করা হচ্ছে না। তাদের দাবি, কয়েক দফা টাকা চাইলে গ্রহিতারা জানান, আমিনুল ইসলাম মোচন বিদেশ থেকে দেশে আসার পর টাকা পরিশোধ করবেন।
দাতারা বলেন, আর্থিক প্রয়োজনের কারণে তারা সম্পদ বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে টাকা না পাওয়ায় তারা ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। বর্তমানে তারা বায়নার টাকা ফেরত দিয়ে জায়গা আর বিক্রি করতে চান না বলে জানান। তাদের অভিযোগ, গ্রহিতারা তাদের হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন। এ ঘটনায় তারা বিজয়নগর থানায় সাধারণ ডায়েরিও করেছেন বলে জানান।
দাতাদের আরও অভিযোগ, সম্প্রতি গ্রহিতারা ওই পুকুরের জায়গায় একটি সাইনবোর্ড স্থাপন করেছেন এবং বায়না সূত্রে নিজেদের মালিক দাবি করছেন। তারা প্রশাসন ও এলাকাবাসীর সহযোগিতা চেয়ে বায়নার টাকা ফেরত দিয়ে জায়গা উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, বায়নার গ্রহিতা আপন দাস, মোহাম্মদ আলী ও আমিনুল ইসলাম মোচনের দাবি, গত ২৬/০৬/২০২৫ ইং তারিখে তারা পুকুরের ৪৫ শতাংশ জায়গা ১ কোটি ১৯ লাখ ২৫ হাজার টাকা মূল্যে কেনার জন্য তিন ফর্দ নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পের মাধ্যমে ১০ লাখ টাকা বায়না প্রদান করেন। চুক্তি অনুযায়ী চার মাসের মধ্যে বাকি টাকা পরিশোধ করে দলিল সম্পাদনের কথা ছিল।
গ্রহিতাদের অভিযোগ, বায়না করার পর তারা জানতে পারেন ওই সম্পত্তি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। পরে ৩০/০৭/২০২৫ ইং তারিখে আদালত সংশ্লিষ্ট ৪০৬ দাগের সম্পত্তি রেজিস্ট্রি না করার জন্য রেজিস্ট্রার অফিসকে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন। এ কারণে তারা দাতাদের মামলা নিষ্পত্তি করে দলিল সম্পাদনের জন্য অনুরোধ করেছেন বলে জানান।
গ্রহিতারা আরও দাবি করেন, কিছু মহলের প্ররোচনায় দাতারা দলিল সম্পাদন না করার চেষ্টা করছেন। তারা চুক্তি অনুযায়ী দলিল সম্পাদনের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয়ভাবে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা করার জন্য চেষ্টা করছেন। বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন।