
আবদুল্লাহ আল হ্নদয়ঃ-নাসির নগরের কুলিকুন্ডায় শত বছরের পুরনোঐতিহ্যবাহী জমজমাট শুঁটকি মেলা । কুলিকুন্ডার চারদিকে উৎসবের আমেজ । দেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলা থেকে কেহ আসে মেলা দেখার জন্য আবার অনেকেই এসেছেন শুটঁকি ক্রয় করতে।অপর দিকে বিভিন্ন এলাকা থেকে শুটকি ব্যবসায়ীরা এসেছেন শুঁটকি বিক্রয় করার জন্য। এভাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের কুলিকুন্ডা গ্রামের একটি স্কুল মাঠের মেলায় জড়ো হয়েছেন দুই শতাধিক ব্যবসায়ী। সবারই পসরা শুঁটকি। নাসিরনগরের এ মেলার ঐহিত্য দীর্ঘদিনের। বরাবরে মতো এবারও পহেলা বৈশাখ ঘিরে মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) থেকে শুরু হয়েছে দুই দিন ব্যাপী এই মেলা। মেলার প্রধান পণ্য শুঁটকি। বর্তমানে বাংলা সনের দ্বিতীয় দিনে এ মেলা শুরু হয়। যদিও পুরোনো পঞ্জিকা অনুযায়ী দিনটি পয়লা বৈশাখ। স্থানীয় জেলেরা পূর্বপুরুষের ঐতিহ্য ধরে রাখতে ব্যতিক্রম এই শুটকি মেলা করে থাকেন। এক সময় বিনিময় প্রথা দিয়ে লেনাদেনা হলেও এখন নগদ টাকায় হচ্ছে বেচাকেনা। স্থানীয়রা জানান, প্রায় দুইশ বছরেরও অধিক সময় ধরে এ মেলা আয়োজিত হচ্ছে।দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে শুঁটকি ব্যবসায়ী ছাড়াও বাহারি শুঁটকির আকর্ষণে দূর-দূরান্ত থেকে ভোজন রসিকরা মেলায় আসেন শুটকি কিনতে। পছন্দের শুঁটকি ক্রয় করতে তারা আসেন এই মেলায়। প্রায় দুই শতাধিক নানান জাতের শুঁটকির পসরা সাজিয়ে বসেছেন দোকানিরা। প্রতিবছর ন্যায় এবারও মেলায় পাওয়া যায় বোয়াল,গজার,শোল,বাইম, ছুড়ি, লইট্টা, পুটি ও টেংরাসহ নানা জাতের দেশীয় মাছের শুঁটকি। এবারও তেমনটাই দেখা গেছে। তবে দেশী মাছের শুঁটকির কদর বেশী। এছাড়াও পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকেও আমদানি করা বিভিন্ন প্রজাতির শুটকি উঠে। মেলায় নাসিরনগর ও পার্শ্ববর্তী এলাকা ছাড়াও চট্টগ্রাম, সিলেট ও সুনামগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীরা শুঁটকি নিয়ে আসেন। সামুদ্রিক অনেক বিরল জাতের মাছের শুঁটকি ছাড়াও ইলিশ ও কার্প জাতীয় বিভিন্ন মাছের ডিমের শুটকি মিলছে এই মেলায়। মেলায় শুটকি কিনতে আসা লোকজনের সঙ্গে আলাপ কালে অনেকেই জানান, আমরা যখন ছোট তখন বাপ-দাদার সঙ্গে এই মেলায় এসেছি। আর এখনও শুটকি নেয়ার জন্য মেলায় আসছি। ২০০ বছরের বেশি সময় ধরে নিয়মিতভাবে এই মেলা বসছে।বিভিন্ন এলাকা থেকে মেলায় এসেছেন শুটকি ব্যবসায়ীরা। তারা বলেন, এ মেলায় শুঁটকি বেচাকেনা হয় অনান্য জায়গা বেশি তাই আমরা বিভিন্ন ধরনের শুঁটকি এনেছি।আমরা আশা করি এবারও প্রতি বছরের মতোই বেচাকেনা ভাল হবে। শুটকি মেলা ঘুরে ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায় প্রতিটি দোকানে প্রায় এক থেকে দেড় লাখ টাকার শুটকি নিয়ে দোকানীরা বসেছে মেলায়।