
স্টাফ রিপোর্ট:-
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জেলা পরিষদের অর্থায়নে জেলার অস্বচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ ও শিক্ষা বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে।
শনিবার (৮ আগস্ট) জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ৯৭ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে নগদ চেক ও শিক্ষা উপকরণ প্রদান করা হয়। এছাড়া অটল বিহারী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে একটি নতুন এইচপি ল্যাপটপ প্রদান করা হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম সিরাজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ। অনুষ্ঠানের সার্বিক সমন্বয়ে ছিলেন জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল কাদির মিয়া।
বৃত্তিপ্রাপ্ত ৯৭ জন শিক্ষার্থী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত। তাদের মধ্যে নটরডেম কলেজ, হলিক্রস কলেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়সহ (বুয়েট) দেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা রয়েছেন।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা বলেন, জেলা পরিষদ যে একটি সরকারি ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠান এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে পারে, তা অনেকেরই জানা ছিল না। জেলা পরিষদের এই উদ্যোগ তাদের পড়াশোনায় আরও মনোযোগী হতে অনুপ্রাণিত করবে। মেধার মূল্যায়ন করায় তারা জেলা পরিষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল জেলা পরিষদকে এমন উদ্যোগ নেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, মেধাবী শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করাই এ ধরনের উদ্যোগের সবচেয়ে বড় অর্জন। শিক্ষার্থীদের উৎসাহ ও সহযোগিতা করলে তারা ভবিষ্যতে দেশ ও জাতির কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা পরিষদ প্রশাসক আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম সিরাজ বলেন, অতীতে মেধাবী শিক্ষার্থীদের যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি। তিনি বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার যেসব মেধাবী শিক্ষার্থী মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করছে, তাদের সবসময় উৎসাহিত করতে এবং তাদের পাশে দাঁড়াতে জেলা পরিষদ কাজ করে যাবে।
তিনি আরও বলেন, ‘টাকার অভাবে কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীর পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গেছে’—এমন কথা যেন শুনতে না হয়। কোনো শিক্ষার্থী আর্থিক সংকটে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে না পারলে বিষয়টি তাকে অবহিত করার আহ্বান জানান তিনি। এ সময় তিনি মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
জেলা পরিষদ প্রশাসক বলেন, আজকের মেধাবী শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের হাতেই একদিন দেশের নেতৃত্বভার তুলে দিতে হবে। তাই তাদের শিক্ষাজীবনে সহযোগিতা ও উৎসাহ দেওয়া সবার দায়িত্ব।