
বিজয়নগর প্রতিনিধি:–
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে স্কুলশিক্ষিকা স্ত্রীর দায়ের করা যৌতুক মামলায় তাঁর স্বামী স্কুলশিক্ষক মো. জাবেদুর রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। গত ১৮ আগস্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, বিজয়নগর আদালতে দায়ের করা মামলায় শুনানি শেষে এ আদেশ দেওয়া হয়।
মামলার বাদী স্কুলশিক্ষিকা মোছা. শারমিন আক্তার শিউলী উপজেলার পত্তন ইউনিয়নের পূর্ব কেশবপুর গ্রামের হারুনুর রশীদের মেয়ে। অপরদিকে, অভিযুক্ত জাবেদুর রহমান চর ইসলামপুর ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর গ্রামের মৃত তারিফুল ইসলামের ছেলে এবং পেশায় স্কুলশিক্ষক।
মামলার এজাহার ও বাদীপক্ষের আইনজীবী সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালে মুসলিম শরিয়াহ মোতাবেক শারমিন আক্তার শিউলীর সঙ্গে জাবেদুর রহমানের বিয়ে হয়। বিয়েতে দেনমোহর নির্ধারণ করা হয় ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা। বিয়ের সময় স্বর্ণালংকার ও আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন সামগ্রী দেওয়া হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এই দম্পতির দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে শারমিনকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হতো। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৭ আগস্ট সকালে অভিযুক্তের বাড়িতে দুই পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে একটি সালিশ বৈঠক হয়। সেখানে জাবেদুর রহমান তাঁর স্ত্রীর পরিবারের কাছে আরও ৫০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। টাকা না দিলে শারমিনকে নিয়ে সংসার করবেন না বলেও তিনি জানিয়ে দেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
এরপর গত ১৮ আগস্ট শারমিন আক্তার শিউলী যৌতুক আইনে আদালতে মামলা করেন। মামলাটির নম্বর সি.আর. ১১৭৮/২০২৬। শুনানি শেষে আদালত জাবেদুর রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
এদিকে, গত ২৩ আগস্ট শারমিন আক্তার শিউলী বিজয়নগর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে একটি লিখিত আবেদন করেছেন। আবেদনে তিনি তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির বিষয়টি উল্লেখ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান।
শারমিনের অভিযোগ, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর জাবেদুর রহমান নিয়মিতভাবে বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালন করছেন না। তিনি বিদ্যালয়ে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে চলে যান।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত স্কুলশিক্ষক মো. জাবেদুর রহমানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
এ বিষয়ে বিজয়নগর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বক্তব্যও তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।