
নিজস্ব প্রতিবেদক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার একাধিক ভুক্তভোগী সংবাদ সম্মেলন করে আল ইহসান সোসাইটি ও এর চেয়ারম্যান খালেদ সাইফুল্লাহর বিরুদ্ধে প্রতারণা, আর্থিক অনিয়ম এবং মিথ্যা মামলার মাধ্যমে হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, প্রথমে ৫ বছর মেয়াদি ডিপিএস (ডিপোজিট পেনশন স্কিম) চালুর কথা বলে তাদের সদস্য করা হয় এবং এ সময় একাধিক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। পরবর্তীতে ঋণ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে আরও বিভিন্ন স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। তাদের দাবি, নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী ঋণের অর্থ পরিশোধ করার পরও পূর্বে স্বাক্ষর করা স্ট্যাম্প ব্যবহার করে তাদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হচ্ছে এবং বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আল ইহসান সোসাইটির চেয়ারম্যান, সেক্রেটারি এবং চাঁদা আদায়কারীর দায়িত্ব একই ব্যক্তি খালেদ সাইফুল্লাহ পালন করছেন, যা একটি সমবায় প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন সৃষ্টি করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও দাবি করা হয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার দরুইন এলাকার একটি ঠিকানাকে সমিতির অফিস হিসেবে ব্যবহার করা হলেও সেটি প্রকৃতপক্ষে কার্যকর অফিস নয়। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি ৫ বছর মেয়াদি ডিপিএস স্কিম পরিচালনা করছে, যার উল্লেখ গ্রাহকদের দেওয়া পাসবইয়েও রয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
ভুক্তভোগীরা আরও অভিযোগ করেন, খালেদ সাইফুল্লাহ অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন এলাকায় বিভিন্ন অনিয়ম ও প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছেন। তাদের ভাষ্য, প্রভাবশালী হওয়ায় এতদিন কেউ প্রকাশ্যে তার বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস পাননি।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়, খালেদ সাইফুল্লাহর পিতা জহিরুল ইসলাম এবং তাদের গ্রামের বাড়ি বিজয়নগর উপজেলার শ্রীপুর, সিংগারবিল এলাকায়। এছাড়া তার বিরুদ্ধে বিজয়নগর থানার জি.আর. নং-৩/২৪ নামে একটি মামলা রয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।
ভুক্তভোগীরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং অভিযোগের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য:
এ বিষয়ে আল ইহসান সোসাইটির চেয়ারম্যান খালেদ সাইফুল্লাহর বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।
উল্লেখ্য, সংবাদে উল্লিখিত সব অভিযোগ সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে উপস্থাপিত। অভিযোগগুলোর সত্যতা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্য অনুরোধ জানান স্হায়ীয়রা।