
স্টাফ রিপোর্ট :-ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিজয়নগর উপজেলায় চান্দুরা ইউনিয়নে পল্লী বিদ্যুতের অনুমোদন ছাড়া মেইন লাইনে সংলগ্ন দু তলা ভবনে কাজ করতে গিয়ে সুমন মিয়া নামক এক নির্মাণ শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু ও হোসেন মিয়া নামক একজন আহত হয়েছে।
নিহত সুমন মিয়া (২৫) সিলেট জেলার ওসমানী নগরের মুক্তা পুর গ্রামের আয়দর মিয়ার ছেলে। আহত হোসেন মিয়া (২৮) একই এলাকার প্রতিবেশী বলে জানা যায়। তারা দীর্ঘদিন যাবত এই ভবনে শ্রমিকের কাজ করতেন।
২৩শে অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) সকাল ১১ টায় উপজেলার চান্দুরা ইউনিয়নের ডাকবাংলায় সৌদি ভবনের পিছনে হাবুল মিঞার ছয় তলা ফাউন্ডেশনে দুতলার ছাদে রডের কাজ করতে গিয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
ঘটনা সূত্রে জানা যায়, হাবুল মিঞার নির্মানাধীন ভবনের উত্তর পাশ দিয়ে ১১ হাজার ভোল্টেজের বৈদ্যুতিক লাইন ছিল। ছাদের ঢালাই করতে রড বাইন্ডিং করতে গিয়ে, ভুলবশত রডের মাথা তারে স্পর্শ হয়ে সুমন ও হুসেন মিয়া আহত হয়।
ঘটনাস্থল হতে সুমন মিয়াকে মাধবপুর সদর হাসপাতালে প্রেরণ করলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন এবং হোসেন মিয়াকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া হাসপাতালে আহত অবস্থায় প্রেরণ করা হয়েছে।
ভবনের মালিক পক্ষ বলেন, আমরা আবেদন করে রেখেছি কিন্তু পল্লী বিদ্যুৎ তা সমাধা করেনি।
এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বিজয়নগর উপজেলার সহকারী জেনারেল ম্যানেজার প্রশান্ত বিশ্বাস জানান, আমাদের কাছে এই লাইন সরানোর জন্য একটি আবেদন করেছে, আবেদনের প্রেক্ষিতে আমরা ড্রয়িং করে অফিস কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে। ভবনের মালিক লাইন সরানোর প্রসেস সম্পন্ন করার আগেই ঝুঁকি নিয়ে কাজ শুরু করেছে। এটাতে আমাদের কোন গাফিলতি ছিল না। তার সরানোর আগে কাজ করতে পারবেনা,আমরা আগেই ভবন মালিক জানিয়ে দিয়েছি,পল্লী বিদ্যুৎ সর্বদাই ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে ভবন নির্মাণের নিষেধ রয়েছে।
এ বিষয়ে বিজয়নগর থানার অফিসার ইনচার্জ শহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মৃতের খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে এসে দেখলাম, শ্রমিকরা ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে গিয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এবিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগ আসেনি।