
স্টাফ রিপোর্টারঃ–
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলা হেফাজতে ইসলামের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আফজাল হোসেনের ব্যক্তিগত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ায় ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
২৬শে মে ২০২৬ (মঙ্গলবার) সকাল ১০টায় উপজেলার চম্পকনগর ইসলামিয়া হাফিজিয়া রাশিদিয়া দারুন উলুম মাদ্রাসায় এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে উপজেলার শতাধিক হেফাজত নেতাকর্মী ও সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।
সম্প্রতি মাওলানা আফজাল হোসেনের ব্যক্তিগত ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে উপজেলা হেফাজতে ইসলাম। কমিটির সদস্যরা হলেন— উপজেলা হেফাজতের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস, যুগ্ম সম্পাদক মুফতি রহমতুল্লাহ কাসেমী এবং দফতর সম্পাদক শহীদুল হক।
আজকের সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত কমিটির পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস। এর আগে তদন্তের বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রাথমিক উপস্থাপনা করেন মুফতি রহমতুল্লাহ কাসেমী।
লিখিত বক্তব্যে তদন্ত কমিটি জানায়, ছড়ানো ভিডিওর বিষয়ে অনুসন্ধান করে দেখা গেছে মাওলানা আফজাল হোসেন এবং ভিডিওতে থাকা নারী (ইসরাত জাহান) সম্পূর্ণ বৈধ স্বামী-স্ত্রী। গত ২১শে সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে ইসরাত জাহানের সম্মতিতে শরীয়ত মোতাবেক তাঁদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও স্পষ্ট করা হয়,
দাম্পত্য জীবনে একে অপরের প্রতি বিশ্বাস ও আনুগত্য বজায় রাখার অংশ হিসেবে তাঁরা নিজেদের মধ্যে একটি শপথ করেছিলেন। এটি তাঁদের একান্তই ব্যক্তিগত মুহূর্তের ধারণকৃত ভিডিও ছিল।
মামুন মিয়া ও সোলেমান মিয়া নামের দুই ব্যক্তি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করেন। উক্ত মোবাইলটি চুরি হয়। আক্রোশ মেটাতে এবং সামাজিক মর্যাদাহানি করতে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়।
সামাজিক মাধ্যমে ফ্লোরে শুয়ে থাকার যে ভিডিওটি ছড়ানো হয়েছে, সেটির ব্যাখ্যায় বলা হয়— সেদিন মাওলানা আফজাল হোসেন গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় কাতরাচ্ছিলেন।
তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে তাঁরা বৈধ স্বামী-স্ত্রী এবং তাঁদের দাম্পত্য জীবনে কোনো সমস্যা নেই। এটি সম্পূর্ণ সাজানো এবং একজনের ব্যক্তিগত চরিত্র হরণের অপচেষ্টা। সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা হেফাজতে ইসলামের সভাপতি আল্লামা শফিকুল ইসলাম তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ভিডিও প্রচারকারীদের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। অন্যথায় জেলা হেফাজতের শীর্ষ নেতাদের সাথে পরামর্শ করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থাসহ রাজপথে হেফাজতের পক্ষ থেকে তীব্র কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। সংবাদ সম্মেলনে উপজেলার বিভিন্ন স্তরের ওলামায়ে কেরাম, মাদ্রাসার শিক্ষক এবং হেফাজতের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।