
স্টাফ রিপোর্ট:-বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রবীণ রাজনীতিবিদ, বর্ষীয়ান নেতা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট হারুন আল রশিদের মৃত্যুতে পুরো জেলাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
শনিবার (২০ জুন) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের নিয়াজ মুহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয় তাঁর তৃতীয় জানাজা নামাজ। প্রিয় নেতাকে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানাতে এতে অংশ নেন বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজার হাজার মানুষ। জানাজাস্থল পরিণত হয় শোকাহত মানুষের মিলনমেলায়।
এর আগে গতকাল রাজধানীতে মরহুমের দুটি জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। শুক্রবার (১৯ জুন) বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রথম জানাজা এবং পরে বাদ আসর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, দলীয় নেতাকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা অংশ নেন।
শনিবার মরহুমের মরদেহ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পৌঁছালে সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ জানাজায় অংশ নিতে জড়ো হতে থাকেন। বিজয়নগর, সরাইল, নবীনগর, নাসিরনগর, আশুগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা শোকের আবহে পরিণত হয়।
জানাজা শেষে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। পরে তাঁর মরদেহ ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের শেরপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়। এ সময় সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে অসংখ্য মানুষ তাদের প্রিয় নেতাকে শেষ বিদায় জানান।
তৃতীয় জানাজায় উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ও বিজয়নগর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল, নবীনগর-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান, নাসিরনগর-১ আসনের সংসদ সদস্য এম এ হান্নান, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবুসাঈদ, পুলিশ সুপার শাহ মোহাম্মদ আব্দুর রউফ, জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম (সিরাজ), প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী।
জানাজায় অংশ নেওয়া নেতারা বলেন, অ্যাডভোকেট হারুন আল রশিদ ছিলেন একজন অভিজ্ঞ, প্রাজ্ঞ ও জনবান্ধব রাজনীতিবিদ। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উন্নয়ন ও মানুষের অধিকার আদায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
সাধারণ মানুষও স্মৃতিচারণ করে বলেন, তিনি ছিলেন সহজ-সরল ও মানুষের কাছের একজন নেতা। তাঁর মৃত্যুতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে সৃষ্টি হয়েছে এক অপূরণীয় শূন্যতা।
জেলা বিএনপির নেতারা জানান, দলের প্রতি তাঁর নিষ্ঠা, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও জনসম্পৃক্ততা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। তারা মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
অ্যাডভোকেট হারুন আল রশিদের বিদায়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রাজনৈতিক, সামাজিক ও সর্বস্তরের মানুষের মাঝে এখনো বিরাজ করছে গভীর শোক ও বেদনার আবহ।